প্রেমের অভিনয় করে ঘরে আনলেন আইনজীবী, উদ্ধার করলো পুলিশ

259
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  শুক্রবার, এপ্রিল ৩০, ২০২১ |  ৭:১৩ অপরাহ্ণ

প্রেমের অভিনয় করে ছেলেদের নিজ ঘরে নিয়ে এসে অশ্লীল ছবি তুলে জিম্মি করে টাকা আদায় করেন সোনিয়া। যারা ছবি দেখেও টাকা দেয় না, তাদের মারধর করে এমন কি প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়া হয়। এভাবেই তাদের হাতে জিম্মি অবস্থায় ২০১৩ সালে একজন মারা যায়। এবার একটি মামলার বিষয়ে কথা আছে বলে বাসায় আনেন এক আইনজীবীকে।তবে ভিকটিম কৌশলে থানায় ফোন দিলে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

চট্টগ্রামের ভয়ঙ্কর এই নারী প্রতারক জোবাইদা সুলতানা হীরা ওরফে সোনিয়া (২৫)কে সহযোগী ইমরানসহ গ্রেফতার করেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। এসময় তাদের জিম্মা থেকে এ্যাডভোকেট এস.এইচ.এম হাবিবুর রহমান আজাদ (৫২) নামে এক আইনজীবীকে উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

গতকাল ২৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাতে আগ্রাবাদ মৌলভীপাড়া ইউসুফ হাজীর বাড়ীর জাহেদের বসত ঘরের নীচ তলার একটি কক্ষ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সেই ঘর থেকেই উদ্ধার করা হয় আইনজীবীকে। গ্রেফতার সোনিয়ার বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। ইমরানও তিন মামলার আসামি।

সোনিয়ার প্রতারণা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, সোনিয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধান। তার গ্রুপে আরও চারজন ছেলে আছে। সোনিয়া প্রেমের অভিনয় করে ছেলেদের নিজ ঘরে নিয়ে আসে। এরপর চক্রের বাকি সদস্যরা অশ্লীল ছবি তুলে জিম্মি করে টাকা আদায় করে। যারা ছবি দেখেও টাকা দেয় না তাদের মারধর করে এমনকি প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়। তাদের হাতে এভাবে জিম্মি অবস্থায় ২০১৩ সালে একজন মারা যায়।

গতকালও এডভোকেট হাবিবকে একটি মামলার বিষয়ে কথা আছে বলে চৌমুহনী দেখা করে সোনিয়া। এক পর্যায়ে সেখান থেকে মৌলভীপাড়া বাসায় যেতে বলে। এডভোকেট হাবিবও তার কথায় বাসায় যান। কিন্তু বাসায় যাওয়া মাত্রই আরও তিন যুবক তাকে আটক করে ফেলে। তারা তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এসময় হাবিব কৌশলে থানায় ফোন করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সোনিয়াকে গ্রেফতার করে। তবে বাকিরা পুলিশ আসার আগেই পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোনিয়া জানায়, গত ১০ বছরে কমপক্ষে ৫০ টি জিম্মির ঘটনা ঘটিয়েছে তার চক্র। গ্রেফতার সোনিয়ার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ৩ টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চক্রে জড়িত প্রত্যেকেই ২ থেকে ৩ মামলার আসামি।

কেএন

Advertisement