শারুন-আনভীরের দ্বন্দ্বের বলি মুনিয়া!

842
 জালালউদ্দিন সাগর |  শনিবার, মে ১, ২০২১ |  ৪:১৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে ব্যাংকার মোর্শেদ চৌধুরী আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় শারুনের সম্পৃক্ততা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ,তার প্রথম স্ত্রী সাফিয়া রহমান মীমকে ভাগিয়ে নেওয়াসহ বেশ কিছু কারণে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের প্রতি ক্ষিপ্ত ছিলেন হুইপ পুত্র নাজমুল হক চৌধুরী শারুন। অন্য দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে সমালোচনা করায় শারুনের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সায়েম সোবহান আনভীর। শারুন ও আনভীরের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে বলি হয়েছেন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোসরাত জাহান মুনিয়া—এমন ধারণা স্বজনদের।

মূলত আনভীরকে শিক্ষা দিতে তার দুর্বল জায়গাগুলো খু্ঁজে বের করা শুরু করেন শারুন। পেয়েও যান আনভীরের পরকীয়া প্রেমিকা আলোচিত ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সম্রাটের এক সময়ের বান্ধবী মুনিয়াকেও। মোবাইল থেকে উদ্ধারকৃত হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশটেও মুনিয়ার সাথে শারুনের সম্পর্ক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Advertisement

অভিযোগ রয়েছে,আলোচিত ক্যাসিনো ব্যবসায়ী বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের গার্লফেন্ড ছিলেন মুনিয়া। ছিলো অবৈধ সম্পর্কও। সম্রাট জেলে যাওয়ার পর শারুন মুনিয়াকে বসুন্ধরার এমডি আনভীরের বিরুদ্ধে ট্রামকার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। সে সত্যতাও বেরিয়ে এসেছে ফাঁস হওয়া চ্যাট থেকেই। সেই চ্যাটে মুনিয়া শারুনকে লিখেছেন— ‘সম্রাট চলে যাওয়ার পর আপনি তো জানেন আমি কতো কষ্টে ছিলাম।

চট্টগ্রামের ব্যাংকার মোর্শেদ চৌধুরী আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় ব্যাংকারের স্ত্রী ইশরাত জাহান শারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর তাকে নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্টওয়েস্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমগুলো। আর এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে মুনিয়াকে ব্যবহার করে সে। মুনিয়ার সাথে শারুনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে তারও প্রমাণ পায় তদন্তকারী সংস্থা যদিও এসব স্ক্রিনশট ভুয়া বলে দাবি করেছেন শারুন।

ব্যাংকার মোর্শেদ চৌধুরী আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা হওয়ার আরও বেশ কয়েক বছর আগেই শারুনের স্ত্রী মীমের সাথে আনভীরের সম্পর্ক নিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সাথে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

২০১৩ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর শারুন ও মীমের বিয়ে হয়। এর পরের বছর ২০১৪ সালের ২৪ জুন তাদের ঘরে প্রথম সন্তান সাইশা করিম চৌধুরী।

শারুনের বিরুদ্ধে মীমের অভিযোগ, সন্তান হওয়ার পর থেকেই বদলে যায় শারুন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে সে। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে তার ঘর থেকে বেরিয়ে যায় আমি।

অভিযোগ রয়েছে, শারুনের নির্যাতনে নয় আনভীরের সাথে পরকীয়া প্রেমের কারণে শারুনের ঘর ছাড়ে মীম। আর এ কারণেরই বসুন্ধরা গ্রুপের সাথে দ্বন্দ্ব শুরু হয় শারুনের। আর এর প্রতিশোধ নিতে গিয়েই মুনিয়াকে আত্মহত্যার করতে প্ররোচিত করেন শারুন। বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া ও আনভীরের প্রতি প্রতিশোধ নিতেই মোসারাত জাহান মুনিয়াকে ট্রামকার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছেন হুইপপুত্র শারুন।

তবে ফাঁস হওয়া স্ক্রিনশট ও মুনিয়ার সাথে সম্পর্ক থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করেন হুইপপুত্র শারুন। মুঠোফোনে তিনি জানান, বসুন্ধরার নিয়ন্ত্রণাধীন ৮টি পত্রিকা আমার বিরুদ্ধে শিরোনাম করেছে তাতে কী লিখছে। জনগণ তাদের সে নিউজ প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরও বলেন, মানির মান আল্লাহ রাখেন।

এসএম

Advertisement