সমস্যা জানে না ওয়াসা!

83
 জালালউদ্দিন সাগর |  মঙ্গলবার, মে ৪, ২০২১ |  ২:৪৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার বিশাল এলাকাজুড়ে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা এক বছর ধরে ওয়াসার নিয়মিত পানি না পেলেও বিষয়টি জানেই না চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। অথচ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত ও মৌখিকভাবে এ সমস্যার কথা একাধিকবার ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানানো হলেও এর কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী রানা চৌধুরী। অভিযোগ পেলেও বিষয়টি জানেন না দাবি করে তিনি বলেন, লোকমুখে বিক্ষিপ্তভাবে অভিযোগ পেয়েছিলাম।

চট্টগ্রাম ওয়াসার দুটি প্রকল্পের পাশে বসবাস উত্তর চান্দগাঁওবাসীর। এ এলাকার বুকচিরে প্রকল্প দুটির সরবরাহ পাইপলাইন গেছে শহরের নানা প্রান্তে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ওয়াসার পানি সরবরাহ পাচ্ছেন না এলাকাটির মানুষ। প্রতিদিন যৎসামান্য পানি পেলেও চাহিদা মেটে না। তাই ওয়াসার পানি না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে বসবাস করছেন এলাকাবাসী।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তর চান্দগাঁওয়ের বেপারিপাড়া এলাকায় বিগত প্রায় এক বছর ধরে ওয়াসার পানি সরবরাহ নেই।  গভীর রাতে সামান্য পানি পেলেও তাতে গৃহস্থালির কাজও হয় না। এ ব্যাপারে ওয়াসাকে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ধরনের প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। এছাড়া এ এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি শিল্পকাখানা। রয়েছে সুপার ডেইরি ফার্ম, রিফ লেদার, এশিয়ান ফ্যাশন, এশিয়ান পেপার, ম্যাপ সু, ফোর এইচ গ্রুপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ পায় না এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান।

ওয়াসার শেখ রাসেল (মদুনাঘাট) পানি সরবরাহ এবং মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প দুটি থেকে দৈনিক পানি উৎপাদন হয় ১৮ কোটি লিটার। এ দুটি প্রকল্পের ডেলিভারি পাইপলাইন দিয়ে উত্তর চান্দগাঁওয়ের বুকচিরে শহরের নানা প্রান্তে পানি সরবরাহ করা হয়। সকালে ঘুম ভাঙলেই উত্তর চান্দগাঁওবাসী দেখেন ওয়াসার বড় বড় পানির পাইপলাইন। অথচ নিজ এলাকাতেই নেই ওয়াসার পানি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উত্তর চান্দগাঁও। ৪নং চান্দগাঁও ওয়ার্ডে এটির অবস্থান। এখানকার বেপারীপাড়া ও চৌধুরী বাড়িসহ আশপাশে আনুমানিক ১০ হাজার মানুষের বসবাস। রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানা। দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকায় পানি সমস্যা থাকলেও তা নজরেই আনছে না ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, এ বিষয়টির খোঁজ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণ জানতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি।

কেএন

Advertisement