মাস গেলেও তদন্তেই সীমাবদ্ধ ব্যাংকার মোর্শেদ’র মামলা!

862
 জালালউদ্দিন সাগর |  বুধবার, মে ৫, ২০২১ |  ৪:৪৬ অপরাহ্ণ

একমাস পেরিয়ে গেলেও তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি চট্টগ্রামে আলোচিত ব্যাংক কর্মকর্তা মোর্শেদ চৌধুরীর আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার। আত্মহত্যার পরদিন স্ত্রী ইশরাত জাহান বাদী হয়ে ৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামী করে পাঁচলাইশ থানায় ফোর্স ডেথের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। অথচ এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত কোনো আসামীর টিকিটির নাগাল পায়নি মামলার তদন্তকারী সংস্থা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। শুধুমাত্র তদন্তেই সীমাবদ্ধ নগর পুলিশের কার্যক্রম। যদিও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের পরিদর্শক মাইনুর রহমানের দাবি,এজাহারভুক্ত না হলেও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলায় সংশ্লিষ্ট আরাফাত নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত এবং পরবর্তীতে বাদীর শনাক্তকৃত আসামীদের ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য আছে কি না জানতে চাইলে মামলার (আইও) মাইনুর রহমান বলেন, তদন্তে যদি তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

Advertisement

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ সালাম কবির বলেন, আমরা অভিযুক্তদের গ্রেফতারে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। তবে কোন কোন স্থানে অভিযান চালিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব কথা তো আপনাকে বলা যাবে না।

মামলার বাদী ইশরাত জাহানের দাবি, এজাহারভুক্ত এবং শনাক্তকৃত আসামীদের অনেকে চট্টগ্রামেই আছেন। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও চোখে দেখেও না দেখার ভান করছে পুলিশ। আসামীরা যাতে দেশ থেকে পালাতে না পারে সে ব্যাপারেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে সতর্কতা জারি করা হয়নি বিমানবন্দর এবং বর্ডারগুলোতে।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল ভোরে নগরীর শিশু একাডেমি সংলগ্ন হিলভিউ আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় ফ্যানের সাথে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন ব্যাংকার আব্দুল মোর্শেদ চৌধুরী। ঘটনার পরদিন ৮ এপ্রিল নিহতের আপন ফুফাত ভাই চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক জাবেদ ইকবাল, তার ভাই পারভেজ ইকবাল এবং নাঈমউদ্দিন সাকিব, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল হক চৌধুরী রাসেলকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী ইশরাত জাহান। পরে ১১ এপ্রিল নগর পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ হুইপপুত্র নাজমুল হক শারুন চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রনেতা আরশাদুল আলম বাচ্চুর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযানের কথা বললেও বাদীর দাবি সব লোক দেখানো তদন্ত। প্রযুক্তির যুগে অবস্থান শনাক্ত করা খুব কঠিন কিছু না। পুলিশ তাদের অবস্থান সনাক্ত করতে পাচ্ছে না অথচ আগাম জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদনও করেছেন এজাহারভুক্ত আসামীরা।

তিনি আরও বলেন, হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী ও আরশাদুল আলম বাচ্চু চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। গ্রেফতার করেছে আরাফাত নামে জাবেদ ইকবালের অফিস সহকারীকে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যদি আরাফাতকে গ্রেফতার করা যায় তাহলে শারুন চৌধুরী ও আরশাদুল আলম বাচ্চুকে নয় কেন ? আইন কী সবার জন্য সমান নয় ? এমন অভিযোগ ইশরাতের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত জাবেদ ইকবাল ইতোমধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন দুবাই। সেখান থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। এছাড়া পারভেজ ইকবালের স্ত্রী’র বেশ কয়েকজন নিকট আত্মীয় থাকেন পাকিস্তান ও ভারতে। বাদীর আশঙ্কা-যেকোনো সময় পাকিস্তান কিংবা ভারতে পাড়ি দিতে পারেন পারভেজ ইকবালও।

অপর দিকে মামলার অন্য আসামী যুবলীগ নেতা শহীদুল হক চৌধুরী রাসেল ঢাকাতে এবং নাঈমউদ্দিন সাকিব তার বাবা এনসিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ মোহসিনের তত্বাবধানেই আছেন বলে জানান বাদি ইশরাত জাহান।

তিনি বলেন, মোর্শেদকে অপহরণ করে মোজাহার ঔষধালয়ে আটকে রেখেছিল সাকিব ও তার বাবা মোহসিন। পরে আমাকেও খবর দিয়ে নিয়ে সেখানে আটকে রেখে আমাদের পাসপোর্টগুলোও হাতিয়ে নেয় তারা। যে মানুষ আমার স্বামীকে অপহরণ করে লোকচক্ষুর আড়ালে আটকে রাখতে পারে সে তার নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রাখতে পারবে না-এটা অবিশ্বাস্য। তার অভিযোগ, পুলিশের যদি অপরাধীদের গ্রেফতারের সদিচ্ছা থাকতো তাহলে আসামীরা এতোদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন?

মামলা বিষয়ে কথা বলতে জাবেদ ইকবাল, পারভেজ ইকবাল, মাইন উদ্দিন সাকিব, আরশাদুল আলম বাচ্চুকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় জাবেদ,পারভেজ,শাকিবের । তবে কল রিসিভ করেননি আরসাদুল আলম বাচ্চু।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল হক চৌধুরী রাসেল বলেন, মোর্শেদের সাথে আমি ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড কথা বলেছি। এতো অল্প সময়ে আমি তাকে কী থ্রেড দেবো?

এসএম

Advertisement